রনি আকন্দ বিশেষ প্রতিনিধি জয়পুরহাট:
আকস্মিকভাবে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় এই পরিদর্শনে আসেন।
এর আগে রোববার বিকেল ৪টার মেডিকেল কলেজের জন্য সম্ভাব্য নির্ধারিত স্থান ক্ষেতলালের বটতলী বাজারে অবস্থিত পরিত্যক্ত ম্যাটসের জায়গাটি সরেজমিন দেখতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হন।
ম্যাটস পরিদর্শন শেষে বিকেল ৫টায় কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা ও সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে জানতে চান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন: বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা মাত্র ৬ মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর কাজ শুরু করেছি। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকারের বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো এবং চিকিৎসকদের তীব্র সংকট দূর করতে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঢাকার ওপর ডায়ালাইসিস সেবার নির্ভরশীলতা কমাতে দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালের পরিকাঠামো ও আধুনিকায়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫১ শয্যা করার সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন ও টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার হাসপাতালে প্রসূতিদের চিকিৎসায় ২৫টি শয্যা, শিশুদের জন্য আলাদা ২০টি বিশেষ শয্যা এবং নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান রাখা হবে। এ ছাড়া আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাব সমৃদ্ধ ৯ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান: জনসেবা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাত একটি বড় ও দক্ষ চিকিৎসাবহর পাবে। চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলেও সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা সিভিল সার্জন আল মামুন, জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহম্মেদ, কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।