জোয়ারে তলিয়ে গেছে রাঙ্গাবালীর ছয় গ্রাম, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

​উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানি ঢুকে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো টানা তৃতীয় দিনের মতো প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


​শুক্রবার দুপুরে জোয়ারের তোড়ে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চালিতাবুনিয়া বাজার ও চিনাবুনিয়া এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবারের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং স্বাভাবিক রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে।

​আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল লঘুচাপে পরিণত হলেও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এখনো বহাল রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আকাশ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু হয়, সঙ্গে ছিল মৃদু দমকা হাওয়া। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় পানির উচ্চতা কিছুটা কম হলেও ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে প্রতিটি জোয়ারেই তাদের এখন প্লাবিত হতে হচ্ছে।


​দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতি বছরই এই এলাকায় দুর্ভোগের চিত্র একই থাকে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙা বাঁধ মেরামতে স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় তাদের জীবনযাত্রা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

​এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খায়রুল হাসান বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।’


​পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত বা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে।

​পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের জন্য আইডব্লিউএমের সহায়তায় সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দেওয়া হবে। তবে ডিপিপি অনুমোদিত হওয়ার পর কাজ শুরু করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *