রনি আকন্দ বিশেষ প্রতিনিধি জয়পুরহাট:
কৃষকের উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। অনেক সময় বাজারে দাম কমে যাওয়ায় কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে সবজি ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য বিক্রি করেন। এতে উৎপাদন খরচও ওঠে না। স্থানীয় পর্যায়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে কৃষকেরা পণ্য কিছুদিন সংরক্ষণ করে বাজারে দাম বাড়ার অপেক্ষা করতে পারবেন। এতে একদিকে কৃষকের লোকসান কমবে, অন্যদিকে তারা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কৃষকের স্বার্থে এ ধরনের সংরক্ষণ সুবিধা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে কালাই সাপ্তাহিক হাট বাজার এলাকায় মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, কৃষিকে শুধু উৎপাদননির্ভর রাখলে হবে না। উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিটি ধাপেই আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে ভোক্তাদের জন্যও বাজার স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে। কৃষককে শক্তিশালী করতে হলে তাঁর উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের ঘাম, শ্রম ও উৎপাদন খরচের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষকের স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও উন্নয়ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলম সরকার, কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান সোহেল তালুকদারসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালাই কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার কৃষকেরা সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। তবে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দাম কম থাকলেও অনেক সময় বাধ্য হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সবজি বিক্রি করতে হয়। বিশেষ করে মৌসুমে একই সময়ে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে উঠলে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। আবার সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে পচনশীল এসব সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে হাট-বাজারের কাছাকাছি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনকে কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এই সংরক্ষণাগারে সবজি রাখার সুযোগ থাকায় বাজারে দাম কম থাকলে কৃষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য বিক্রি না করে কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। পরে বাজারদর তুলনামূলক ভালো হলে সংরক্ষিত সবজি বাজারজাত করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার সম্ভাবনাও বাড়বে।
কালাইয়ের কৃষকেরা আশা করছেন, প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মিনি কোল্ড স্টোরেজটি নিয়মিত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলে এটি শুধু কৃষিপণ্য সংরক্ষণের স্থাপনা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।