কালাইয়ে ১২ ফুট গাঁজার গাছসহ হারেজ মন্ডল আটক

রনি আকন্দ বিশেষ প্রতিনিধি জয়পুরহাট:

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আকলাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে পরিচর্যা করে বড় করে তোলা ১২ ফুট উচ্চতার ও ৪ কেজি ওজনের একটি গাঁজা গাছসহ হারেজ মণ্ডল (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শুক্রবার (২১ আগষ্ট) রাতে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের আকলাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। আটক হারেজ মণ্ডল আকলাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল মণ্ডলের ছেলে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হারেজ মণ্ডলের বাড়ির আঙিনায় গাঁজাগাছ রয়েছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির আঙিনায় প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার একটি গাঁজা গাছ দেখতে পান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। পরে গাঁজা গাছটি জব্দ করে হারেজ মণ্ডলকে আটক করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে বাড়ির আঙিনায় গাঁজা গাছটি লাগানো হয়।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছটি বড় হয়ে ওঠলেবিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হারেজ মণ্ডলকে গাঁজা গাছটি নষ্ট করার জন্য বলেন। তবে তিনি স্থানীয়দের কথায় কর্ণপাত না করে গাছটির নিযমিত পরিচর্যা চালিয়ে যান বলে অভিযোগ তরেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ মাস ধরে গাছটি পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা হয়। একপর্যায়ে সেটি প্রায় ১২ ফুট উচ্চতায় পৌঁছায়। পরে বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নজরে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাছটি জব্দ এবং হারেজ মণ্ডলকে আটক করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান,বাড়ির আঙ্গিনায় বাড়ির আঙিনায় লাগানো অবস্থায় গাঁজা গাছটি উদ্ধার করা হয়েছে। গাছটি দীর্ঘদিন থেকে সেখানে পরিচর্যা করা হচ্ছিল এবং এর পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নিষেধ করার পরও গাছটি না সরিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করে, এন পিছনে কারও পরিকল্পিত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

জয়পুরহাট জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, আটক হারেজ মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কালাই থানা মামলা দাযের করা হয়েছে। গাঁজা গাছটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *