রনি আকন্দ বিশেষ প্রতিনিধি জয়পুরহাট:
জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্ত্রীকে মারপিট করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বামীর মারপিটে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় স্ত্রী মাছুদা বেগম (২৭) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই বছির উদ্দীন বাদী হয়ে গত ১৭ আগস্ট জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। মাছুদার মারা যাওয়ার খবর্ এলাকায় পৌছিলে স্থানীয় বাজারে স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী তাকে আটকিয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেন । পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। আজ শনিবার দুপুরে জেল-হাজতে পাঠান।
স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামানিকের ছেলে। নিহত গৃহবধূ মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়ার মৃত দিলবর মন্ডলের মেয়ে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ওসি তদন্ত দিপেন্দ্র নাথ সিংহ।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। সংসারে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। এরমধ্যে তাদের বিচ্ছেদও হয়। বিচ্ছেদের একবছরের মাথায় তারা আবারও বিবাহ করেন। এরইমধ্যে গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে না থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বাঁধে। একপর্যায়ে স্ত্রীকে বেদম মারপিট করে। তখন স্ত্রী মাছুদা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মেঝেতে গুরুত্বর আহত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার শাররীক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে না হওয়ায় ওইদিনই তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাছুদা মারা যায়।

মামলার বাদী বছির মন্ডল বলেন, আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি বোন হত্যার সুষ্ঠ বিচার চাই। হত্যার সাথে জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
কালাই থানার ওসি তদন্ত দিপেন্দ্র নাথ সিংহ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঐ মহিলার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে কালাই থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসী নিহতের স্বামীকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ থাকে গ্রেফতার করে। আজ দুপুরে মেহেদী হাসান শাপলাকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।