মোঃ রনি আহমেদ রাজু, মাগুরা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার স্কুলছাত্রী রাজিয়া সুলতানাকে (১২) ধর্ষণচেষ্টা ও নির্মমভাবে গলা টিপে হত্যার দায়ে আসামি হাসান শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ ইং, মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী রাজিয়া সুলতানা মাঠে রসুনের জমিতে রসুন তুলতে যায়। সেখানে একই গ্রামের হাসান শেখ তাকে জোরপূর্বক নদীর পাশে একটি বাঁশতলায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হাসান ওড়না দিয়ে রাজিয়ার গলা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ব্লেড দিয়ে তার শরীরে আঘাত ও ক্ষত সৃষ্টি করা হয়।
তদন্তকালীন সময়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চুল ও নমুনার সঙ্গে হাসান শেখের ডিএনএ রিপোর্ট ম্যাচ করে, যা আদালতে তার অপরাধের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়। মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়, যেখানে সকল সাক্ষীই আসামির অপরাধের বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হন।
রায় ঘোষণার পর নিহত রাজিয়ার মা ছবিরন নেছা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হাসান নামের এই ছেলেটি আমাদের গ্রামেরই। সে আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করত। রসুন ক্ষেত থেকে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে সে এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়। আজকের এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে আমি চাই এই ফাঁসির রায় যেন অতি দ্রুত কার্যকর করা হয়।
আদালত চত্বরে উপস্থিত একজন তরুণ আইনজীবী মোঃ মোরশেদ রায়ের বিষয়ে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও সঠিক তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এই রায়ে খুশি এবং আশা করি উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, মাগুরায় ঘটে যাওয়া আলোচিত ‘আছিয়া হত্যা মামলা’তেও আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল, যা এখনও কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। মাগুরাবাসীর দাবি, রাজিয়ার ক্ষেত্রে যেন রায়ের বাস্তবায়ন শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে যেন এর চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে।